পরিকল্পনা বিভাগ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৩১st জানুয়ারি ২০১৭

মাননীয় মন্ত্রী

জনাব আ হ ম মুস্তফা কামাল (লোটাস কামাল), এফসিএ, এমপি

গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় মন্ত্রী

 

 

 

জন্ম তারিখ :       ১৫ জুন, ১৯৪৭

পিতা      :       আলহাজ্ব বাবরম্ন মিয়া (মৃত)

মাতা      :       সায়েরা খাতুন

পিতৃভূমি   :       গ্রাম: দুতিয়াপুর, পো: বাগমারা, উপজেলা: কুমিল্লা সদর দক্ষিণ, জেলা: কুমিল্লা

 

সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী একজন রাজনীতিবিদ জনাব লোটাস কামাল

জনাব আ হ ম মুসত্মফা কামাল (লোটাস-কামাল) ¾ভিন্নধারার, সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী একজন রাজনীতিবিদ। আমাদের সমাজে আর দশজন যেভাবে রাজনীতি করেন, রাজনীতিকে নিজের ব্যবসা এবং ক্ষমতার হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করেন, জনাব কামাল তার সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি মিথ্যা বলা একদম পছন্দ করেন না এবং যারা মিথ্যা বলেন তাদেরকে সহ্য করেন না। ৯৬’এর নির্বাচনের আগে তিনি প্রথম প্রথম যখন তঁার বক্তৃতায় বলতে লাগলেন, তিনি মিথ্যা বলেন না এবং মিথ্যা প্রতিশ্রম্নতি দিয়ে রাজনীতি করবেন না, অনেকেই সেই সময় তঁার সে কথা বিশ্বাস করিনি। তিনি এলাকার দেয়ালে দেয়ালে লিখে দিলেন ‘‘সত্য কথা বলেও রাজনীতি করা যায়’’। যেহেতু এই এলাকায় অতীতে অনেক দিন সত্যের রাজনীতি দেখা যায়নি, তাই প্রথম প্রথম কামাল সাহেবের দেয়ালের ঐসব লিখাও বিশ্বাস করা হতো না। আর তাই এগুলোকে গতানুগতিক রাজনীতির বুলি হিসেবে উড়িয়ে দেয়া হতো। এলাকার লোকজন তার সাথে যখন ধীরে ধীরে মিশতে শুরম্ন করেছে, অতি অল্প সময়ের মাঝেই লোকজন তঁাকে চিনতে সক্ষম হয়েছে। একজন সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি আবির্ভুত হয়েছেন। তিনি সত্য কথা বলে রাজনীতি করেন- রাজনীতিতে তিনি একজন সততার প্রবক্তা।

 

একজন উচ্চ শিক্ষিত মানুষ লোটাস কামাল

জনাব কামাল ১৯৬২ সালে বাগমারা হাইস্কুল থেকে মেট্টিকুলেশন; ১৯৬৪ সালে কুমিলস্না ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে আই কম; ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বি কম (অনার্স) এবং ১৯৬৮ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টারস ডিগ্রী লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি একাউনটেন্সী শাস্ত্রে উচ্চতর ডিগ্রী অর্জন করেন। জনাব কামাল ১৯৭০ সালে তদানিমত্মন পাকিসত্মানে (পূর্ব এবং পশ্চিম পাকিসত্মান একত্রে) চার্টার্ড একাউনটেন্সী পরীক্ষায় মেধা তালিকায় সম্মিলিতিভাবে প্রথম স্থান অর্জন করেন। তদানিমত্মন পাকিসত্মানে (উভয় পাকিসত্মান মিলে) চার্টার্ড একাউনটেন্সী পরীক্ষায় তিনিই একমাত্র বাঙ্গালী যিনি প্রথম স্থান অধিকার করার এক বিরল কৃতিত্বের অধিকারী।

 

ক্রিকেট অঙ্গনে জনাব কামাল

জনাব কামাল এক বর্নাঢ্য জীবনের অধিকারী। লোটাস কামাল গ্রম্নপের সভাপতি ছাড়াও তিনি গত ত্রিশ বছরের উপর ক্রিকেটের সাথে সম্পৃক্ত থেকে এর উন্নয়নে বিভিন্ন দায়িত্বে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯০-এর দশকে লোটাস কামাল পেস বোলিং ক্রিকেট একাডেমী প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯১ থেকে ২০০৭ সাল পর্যমত্ম বাংলাদেশের প্রথিতযশা ক্রিকেট ক্লাব আবাহনী লিমিটেডের সাবেক পরিচালক এবং উক্ত সময়ে ক্লাবগুলোর ক্রিকেট কমিটির সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে অংশগ্রহণের পূর্বকালীন সময়ে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লীগে আমত্মর্জাতিক ক্রিকেট খেলোয়াড় অমত্মর্ভূক্তিতে নেতৃত্ব দেন তিনি। ২০১২-১৩ মৌসুমে ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে সকল খেলোয়াড়কে বিসিবি’র কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় নিয়ে আসেন। আইসিসি’র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালনের পূর্বে সেপ্টেম্বর ২০০৯ সাল থেকে অক্টোবর ২০১৩ সাল পর্যমত্ম বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এর সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। এ দায়িত্ব পালনকালে ২০১২-২০১৪ মেয়াদে আমত্মর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সহ-সভাপতি হিসেবে মনোনীত হন। এবং ২৬ মে ২০১৪ তারিখ থেকে সংশিস্নষ্ট সংস্থার সভাপতি হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি আইসিসি’র অডিট কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। জনাব কামাল ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যমত্ম এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি) এর সভাপতি হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

 

ছাত্র জীবন থেকে শুরম্ন করে রাজনীতিতে জনাব কামালের ভূমিকা

ছাত্র জীবনেই জনাব কামালের রাজনীতিতে হাতে খড়ি হয়। লেখাপড়ার পাশাপাশি তিনি ছাত্র রাজনীতিতে অত্যমত্ম সক্রিয় ছিলেন। চট্টগ্রামে পড়ালেখার সময় তিনি সরকারী বাণিজ্য কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। ছাত্রলীগের প্রার্থী হিসেবে বিভিন্ন সময় তিনি কলেজ কেবিনেটে সম্পাদকের দায়িত্ব পালণ করেছেন। চট্টগ্রামে কুমিলস্না এসোসিয়েশনের সভাপতি ছিলেন। ১৯৬৯-এর গণ অভ্যুত্থান, ৭০-এর নির্বাচন এবং ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে তিনি প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখেন। ১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুত্থানের সময় তিনি ছিলেন এলাকার অন্যতম সংগঠক।

 

জনাব কামাল রাজনীতিতে কখনো আদর্শ বিসর্জন দেননি। দলচ্যুত হননি। তিনি সরাসরি ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে এসেছেন। রাজনীতির কারণে তিনি ১৯৭৮ সালে এবং ২০০৭ এর ওয়ান ইলেভেনের পর ১৯ মাস ৪ দিন জেল খেটেছেন।

 

প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে জনাব কামালের আগমন

জনাব কামালের বাল্যবন্ধু এবং সহপাঠী আমাদের প্রয়াত নেতা আবুল কালাম মজুমদার সাহেব যেহেতু আগাগোড়া এ অঞ্চলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন, তঁার জীবদ্দশায় কামাল সাহেব কখনো এলাকায় প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে আসেননি। বরং তিনি প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে তঁার বন্ধুকে সকল সময় সহযোগিতা দিয়ে আসছিলেন। একথা এলাকার সকল মানুষের জানা। ১৯৯৪ সালের অক্টোবর মাসে কালাম মজুমদার সাহেবের অকাল মৃত্যুর পর (আলস্নাহ তঁাকে বেহেসত্ম নসিব করম্নন), আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর নির্দেশে জনাব কামাল ১৯৯৬ এর সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই এলাকায় প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে আসেন। তখন থেকে তঁার সকল কর্মকান্ড কুমিলস্না-১০ নির্বাচনী এলাকার আপামর সকল মানুষের জানা।

 

সংসদ সদস্য হিসেবে জনাব কামাল যে সকল দায়িত্ব পালন করেছেন

সংসদ সদস্য হিসেবে জনাব কামাল রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে আমেরিকা, ইংল্যান্ড, কোরিয়া, চীন, নেদারল্যান্ড জাপান, মালয়েশিয়াসহ অনেক দেশ সফর করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবেও তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং মালয়েশিয়া সফর করেছেন।

সদস্য, অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি; সদস্য, পাবলিক একাউন্টস কমিটি; সদস্য, বিনিয়োগ বোর্ড; সদস্য, প্রাইভেটাইজেশন বোর্ড; আহবায়ক, পূঁজি বাজার উন্নয়ন (অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রামত্ম স্থায়ী কমিটি কর্তৃক গঠিত); সদস্য, কুমিলস্না বার্ড; সদস্য, যাকাত বোড;র্ সিনেট সদস্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়াও তিনি ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে অর্থমন্ত্রনালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সম্মানিত সভাপতি মনোনীত হয়েছেন।

এ তালিকা হতে এটা সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, জনাব কামাল এমপি থাকাকালীন সময়ে দেশের অর্থনীতি এবং শিল্পখাতের সাথে সম্পর্কিত প্রায় সকল বিভাগেই সম্পৃক্ত ছিলেন।


Share with :
Facebook Facebook